Share
Link copied
পশ্চিমবঙ্গ ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নির্দেশিকা
CoreSignal / পরিচয়পত্র ও সার্টিফিকেট / ডোমিসাইল সার্টিফিকেট
পরিচয়পত্র ও সার্টিফিকেট

পশ্চিমবঙ্গের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (West Bengal Domicile Certificate): যোগ্যতা, নথি ও আবেদনের পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী বসবাসের প্রমাণ। রাজ্য কোটায় ভর্তি, রাজ্য সরকারি চাকরি ও বৃত্তির জন্য লাগে। আবেদন হয় e-District পোর্টালের মাধ্যমে।

পশ্চিমবঙ্গ e-District-এর সূত্র মিলিয়ে যাচাই করা, অক্টোবর ২০২৬ ৮ মিনিটের পাঠ ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ: SDO / BDO, পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব দপ্তর

০১ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কী (What is a Domicile Certificate)?

ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে স্থানীয় বাসিন্দা সার্টিফিকেটও বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব দপ্তর এই সরকারি নথি দেয়, যাতে প্রমাণ হয় যে ব্যক্তি রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। পশ্চিমবঙ্গে যে সার্টিফিকেটগুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এটি তার একটি। কারণ সাধারণ ঠিকানার প্রমাণে যে বিষয়গুলির নিষ্পত্তি হয় না, সেসব ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত চাওয়া হয়।

কলেজ ও পেশাদার পাঠক্রমে রাজ্য কোটার আসনে আবেদন, বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত রাজ্য সরকারি চাকরি এবং এই সাইটে অন্যত্র আলোচিত বেশ কিছু রাজ্য বৃত্তি ও কল্যাণ প্রকল্পে সাধারণত এটি চাওয়া হয়।

০২কারা যোগ্য

নীচের যে কোনও একটি শর্ত পূরণ করলে সাধারণত আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হন।

  • বসবাস: পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছরের বেশি সময় বসবাস
  • সম্পত্তির মালিকানা: রাজ্যে স্থায়ী স্থাবর সম্পত্তি থাকা, এখন সেখানে না থাকলেও
  • বিবাহ: পশ্চিমবঙ্গের বাইরের কোনও মহিলা, যাঁর বিয়ে হয়েছে রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দার সঙ্গে
জেনে রাখুন: সার্টিফিকেট একবার দেওয়া হলে আজীবন বৈধ থাকে। অন্য কিছু সার্টিফিকেটের মতো মাঝে মাঝে নবীকরণ করতে হয় না।

০৩প্রয়োজনীয় নথি

  • পরিচয়ের প্রমাণ: প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার আইডি (EPIC) বা রেশন কার্ড
  • বয়সের প্রমাণ: মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট বা জন্ম সনদ
  • বাসস্থানের প্রমাণ: ভাড়াটেদের ক্ষেত্রে ভাড়ার রসিদ, আর মালিকদের ক্ষেত্রে জমি বা সম্পত্তির কাগজ এবং SDO-র দেওয়া বসবাসের সার্টিফিকেট
  • বিবাহের সার্টিফিকেট, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দার সঙ্গে বিবাহের ভিত্তিতে যোগ্যতা দাবি করা হচ্ছে

০৪অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে

  1. পশ্চিমবঙ্গ e-District পোর্টালে গিয়ে Login/Sign Up বেছে নিন। প্রথমবার আবেদন করলে Register করুন।
  2. ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে লগ ইনের তথ্য ঠিক করুন। OTP দিয়ে যাচাই হবে।
  3. লগ ইন করে Services-এর অধীনে Local Residence (Domicile) Certificate বেছে নিন।
  4. নির্দেশিকার পাতা পড়ে Apply-এ ক্লিক করুন।
  5. আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি জুড়ে জমা দিন।
  6. জমা দেওয়ার পর তৈরি হওয়া আবেদন শনাক্তকরণ নম্বর (AIN) লিখে রাখুন। পরে আবেদন ট্র্যাক করতে এটিই লাগে।

অফলাইন পথও আছে। নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্র (তথ্য-মিত্র কেন্দ্র), ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের (BDO) দপ্তর বা মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তরে গিয়ে সরাসরি আবেদন করা যায়। সেখানে কর্মীরা একই ফর্ম পূরণে সাহায্য করেন।

০৫ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ, সময় ও ফি

পশ্চিমবঙ্গের ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের সংক্ষিপ্ত তথ্য
ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) বা মহকুমা শাসক (SDO), জেলা শাসকের দপ্তরের অধীনে
প্রক্রিয়াকরণের সময়জমা দেওয়ার পর প্রায় ৭ কর্মদিবস
মেয়াদআজীবন, নবীকরণের দরকার নেই
ফিনামমাত্র / e-District পোর্টালে যেমন বিজ্ঞপ্তি আছে

প্রক্রিয়াকরণের সঠিক ফি সরকারি নথিতে রাজ্যজুড়ে একই বলে প্রকাশিত নয়, জেলাভেদে সামান্য আলাদা হতে পারে। তাই আবেদনের সময় e-District পোর্টালে বর্তমান অঙ্ক দেখে নেওয়া ভাল।

০৬আবেদনের অবস্থা দেখা

  • অনলাইনে: e-District পোর্টালে লগ ইন করে View Status খুলুন, Track Application বেছে আবেদন শনাক্তকরণ নম্বর (AIN) লিখুন।
  • SMS-এ: পোর্টালে নির্দিষ্ট করা বিন্যাসে ১৬ অঙ্কের AIN লিখে 166 বা 51969 নম্বরে পাঠান।

০৮প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের কি মেয়াদ ফুরোয়?

না। একবার দেওয়া হলে পশ্চিমবঙ্গের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আজীবন বৈধ থাকে, নবীকরণের দরকার হয় না।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, এমন কেউ কি আবেদন করতে পারেন?

শুধু বসবাসের ভিত্তিতে সাধারণত নয়, কারণ সেই পথে টানা ১৫ বছরের বেশি বসবাস লাগে। রাজ্যে স্থায়ী সম্পত্তি থাকা বা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দার সঙ্গে বিবাহ, এই দুটি পথে কত দিন আছেন তার ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে না।

ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কি আধারের মতো ঠিকানার প্রমাণ?

না। আধারের মতো নথি বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ দেয়। আর ডোমিসাইল সার্টিফিকেট রাজ্যে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার একটি আনুষ্ঠানিক ও যাচাই-করা দাবি, যা প্রতিষ্ঠান ও রাজ্যের কোটা বিশেষভাবে চায়।

এটি সচরাচর কী কাজে লাগে?

কলেজ ও পেশাদার পাঠক্রমে রাজ্য কোটার আসন, বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত রাজ্য সরকারি চাকরির আবেদন, এবং বেশ কিছু রাজ্য বৃত্তি ও কল্যাণ প্রকল্পের যোগ্যতার জন্য।

অফিসে না গিয়েই কি আবেদন জমা দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। রেজিস্ট্রেশন থেকে নথি আপলোড ও অবস্থা দেখা, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গ e-District পোর্টালেই করা যায়। যাঁরা চান, তাঁদের জন্য BDO/SDO দপ্তর ও নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্রে সরাসরি সাহায্যও মেলে।

পশ্চিমবঙ্গ e-District-এর বর্তমান পদ্ধতি, ফি ও নথির তালিকা অনুযায়ী এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সবসময় সরকারি e-District পোর্টাল বা স্থানীয় BDO/SDO দপ্তর দেখুন।