Share
Link copied
ভোটার আইডি কার্ড নির্দেশিকা
পরিচয়পত্র ও সার্টিফিকেট

ভোটার আইডি কার্ড (Voter Id Card): নাম নথিভুক্তি, সংশোধন ও ই-EPIC ডাউনলোড

ভারতের প্রতিটি নথিভুক্ত ভোটারের জন্য নির্বাচন কমিশনের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র। প্রথম নিবন্ধন থেকে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড পর্যন্ত।

ECI ভোটার সার্ভিসেস পোর্টালের সূত্র মিলিয়ে যাচাই করা, অক্টোবর ২০২৬ ৯ মিনিটের পাঠ ইস্যুকারী সংস্থা: ভারতের নির্বাচন কমিশন

০১ভোটার আইডি কার্ড কী (What is a Voter Id Card)?

ভোটার আইডি কার্ডের সরকারি নাম নির্বাচকের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র (EPIC)। ভোটার তালিকায় নাম থাকা প্রতিটি নাগরিককে এটি দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কার্ডটি একই সঙ্গে দু’টি কাজ করে। একদিকে এটি প্রমাণ করে যে নির্দিষ্ট কোনও কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। অন্যদিকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে হোটেলে ওঠা পর্যন্ত রোজকার যাচাইয়ে এটি সরকারি ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নথিগুলির একটি।

নাম নথিভুক্তি এবং কার্ড, দুটিই বিনামূল্যে। স্থানীয় নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) এবং ECI-এর অনলাইন ভোটার সার্ভিসেস পোর্টালের মাধ্যমে তা মেলে।

০২কারা ভোটার হিসেবে নাম তুলতে পারেন

  • ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের ভারতীয় নাগরিক, নির্ধারিত যোগ্যতার তারিখে, যিনি যে কেন্দ্রে নাম তুলতে চান সেখানে সাধারণত বসবাস করেন
  • প্রথমবারের ভোটার, যাঁরা সংশ্লিষ্ট বছরে ১৮ হচ্ছেন। ECI-এর ধাপে ধাপে যোগ্যতার তারিখ ঠিক করার ব্যবস্থায় এখন আগাম নাম তোলা যায়।
  • NRI, যাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব রেখেছেন এবং অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব নেননি। ভারতে তাঁদের শেষ ঠিকানায় নাম তুলতে পারেন। তবে ভোট দিতে সাধারণত ওই কেন্দ্রে সশরীরে হাজির হতে হয়।
জেনে রাখুন: একজন ব্যক্তি একসঙ্গে শুধু একটি কেন্দ্রেই নথিভুক্ত থাকতে পারেন। নতুন ঠিকানায় চলে গেলে নতুন করে নাম তোলার বদলে সংশোধনের আবেদন (ফর্ম ৮) করতে হয়।

০৩নথিভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নথি

নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার আবেদন ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার সময় এই নথিগুলি দিতে হয়।

  • বয়সের প্রমাণ: জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অথবা জন্মতারিখ লেখা স্বীকৃত শিক্ষাগত সার্টিফিকেট
  • ঠিকানার প্রমাণ: আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক বা ডাকঘরের পাসবই, অথবা ভাড়ার চুক্তিপত্র
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট মাপের ছবি
  • আধার নম্বর। বিভিন্ন কেন্দ্রে নাম দু’বার ওঠা আটকাতে ফর্মে এটি চাওয়া হয়।

ফর্মে আধার জুড়লে একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন কমে। তবে ভোটার হওয়ার যোগ্যতার শর্ত হিসেবে আধার থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

০৪অনলাইনে নাম তুলবেন যেভাবে

নতুন নিবন্ধন হয় ECI-এর ভোটার সার্ভিসেস পোর্টালের মাধ্যমে।

  1. ভোটার সার্ভিসেস পোর্টালে গিয়ে মোবাইল নম্বর, ইমেল ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। দুটিই OTP দিয়ে যাচাই করতে হয়।
  2. লগ ইন করে সাধারণ নির্বাচকদের নতুন নিবন্ধনের অংশে ফর্ম ৬ খুলুন।
  3. ব্যক্তিগত তথ্য, আত্মীয়ের তথ্য, যোগাযোগের বিবরণ, আধার নম্বর, জন্মতারিখ ও বর্তমান ঠিকানা লিখুন।
  4. প্রয়োজনীয় নথি ও সাম্প্রতিক ছবি আপলোড করুন, তার পর পূরণ করা ফর্মের প্রিভিউ দেখে নিন।
  5. ফর্ম জমা দিন এবং প্রাপ্তিস্বীকারে দেখানো রেফারেন্স নম্বরটি লিখে রাখুন। পরে আবেদন ট্র্যাক করতে এটিই লাগবে।

তালিকায় নাম যোগ হওয়ার আগে সাধারণত বুথ লেভেল অফিসার (BLO) দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তথ্য যাচাই করেন। এতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

০৫আবেদনের অবস্থা দেখা

  1. নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও OTP দিয়ে ভোটার সার্ভিসেস পোর্টালে লগ ইন করুন।
  2. Track Application Status খুলুন।
  3. প্রাপ্তিস্বীকার রসিদের রেফারেন্স নম্বর লিখে রাজ্য বেছে জমা দিলে বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে।

স্থানীয় নির্বাচক নিবন্ধন দপ্তরে গিয়ে নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা বলেও অবস্থা জেনে নেওয়া যায়।

০৬ই-EPIC ডাউনলোড করবেন যেভাবে

ভোটার আইডির ডিজিটাল ও ডাউনলোডযোগ্য সংস্করণকে ই-EPIC বলে। নিবন্ধন সম্পূর্ণ হলে তা পাওয়া যায়।

  1. নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও OTP দিয়ে ভোটার সার্ভিসেস পোর্টালে লগ ইন করুন।
  2. E-EPIC Download অংশটি খুলুন।
  3. EPIC নম্বর বা ফর্মের রেফারেন্স নম্বর, যেটি আছে সেটি লিখে রাজ্য বেছে খুঁজুন।
  4. দেখানো তথ্য মিলিয়ে নিন, তার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে আসা OTP দিয়ে নিশ্চিত করুন।
  5. ই-EPIC PDF হিসেবে ডাউনলোড করুন।

একই ডাউনলোড ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ থেকেও করা যায়। লগ ইন করার পর ‘Personal Vault’ অংশে দেখুন। OTP-র ধাপে পোর্টালে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর লাগে। নম্বরটি পুরোনো হয়ে গেলে আগে ফর্ম ৮ দিয়ে সেটি সংশোধন করতে হবে।

০৭তথ্য সংশোধন বা ঠিকানা বদল

নাম, বয়স, ঠিকানা বা ছবিতে ভুল থাকলে, কিংবা নতুন কেন্দ্রে চলে গেলে ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে তা করা হয়।

  1. ভোটার সার্ভিসেস পোর্টালে লগ ইন করে তথ্য সংশোধনের জন্য ফর্ম ৮ খুলুন।
  2. যে ঘরটি সংশোধন করতে হবে সেটি বেছে নতুন তথ্য লিখুন।
  3. সংশোধনের প্রমাণ হিসেবে সহায়ক নথি আপলোড করুন।
  4. জমা দিয়ে ট্র্যাক করার জন্য রেফারেন্স নম্বর লিখে রাখুন।

বুথ লেভেল অফিসার অনুরোধটি প্রক্রিয়া করেন এবং যাচাইয়ের পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়। একই ফর্ম স্থানীয় নির্বাচন দপ্তরে গিয়ে সরাসরিও জমা দেওয়া যায়।

০৯প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ভোটার আইডির জন্য নাম তুলতে বা কার্ড পেতে কি কোনও ফি লাগে?

না। নিবন্ধন, সংশোধন এবং ফিজিক্যাল কার্ড ও ই-EPIC, সবই ভারতের নির্বাচন কমিশন বিনামূল্যে দেয়।

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কি নাম তোলা যায়?

হ্যাঁ। সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার তারিখের চক্রে যাঁরা ১৮ হচ্ছেন, ECI তাঁদের আগাম নাম তোলার সুযোগ দেয়। ফলে যোগ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নাম তালিকায় তৈরি থাকে।

ফিজিক্যাল EPIC আর ই-EPIC-এর মধ্যে তফাত কী?

ফিজিক্যাল EPIC হল নিবন্ধনের পর বাড়িতে পৌঁছনো লেমিনেটেড কার্ড। ই-EPIC হল একই কার্ডের সুরক্ষিত ও ডাউনলোডযোগ্য PDF সংস্করণ, যাতে QR কোড থাকে। ব্যাকআপ হিসেবে বা কার্ড হারিয়ে গেলে কাজে লাগে।

নতুন নিবন্ধন সম্পূর্ণ হতে কত সময় লাগে?

কেন্দ্রভেদে আলাদা। তবে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার পর BLO-র যাচাই এবং ভোটার তালিকায় নাম ওঠায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ লাগে।

NRI-রা কি ভারতে ভোট দিতে পারেন?

ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখা NRI-রা ভারতে শেষ ঠিকানায় নাম তুলতে পারেন। কিন্তু বর্তমান নিয়মে সাধারণত দূর থেকে নয়, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে সশরীরে ভোট দিতে হয়।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পদ্ধতি ও নথির তালিকা অনুযায়ী এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সবসময় সরকারি ভোটার সার্ভিসেস পোর্টাল বা উপরের হেল্পলাইন দেখুন।