Share
Link copied
পাসপোর্ট সেবা নির্দেশিকা
পরিচয়পত্র ও সার্টিফিকেট

পাসপোর্ট সেবা (Passport Seva): নতুন আবেদন ও নবীকরণ, ধাপে ধাপে

ভারতের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নথি। প্রথম আবেদন থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন, নবীকরণ ও পুনর্বার ইস্যু পর্যন্ত।

পাসপোর্ট সেবার সূত্র মিলিয়ে যাচাই করা, অক্টোবর ২০২৬ ১১ মিনিটের পাঠ ইস্যুকারী সংস্থা: বিদেশ মন্ত্রক

০১পাসপোর্ট কী (What is a Passport)?

পাসপোর্ট হল আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সরকারি নথি। বিদেশ মন্ত্রক (MEA) তার পাসপোর্ট সেবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটি দেয়, আর এতে ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পরিচয় প্রমাণিত হয়। পাসপোর্ট তিন রকম: সাধারণ (নীল), সরকারি (সাদা) এবং কূটনৈতিক (মেরুন)। প্রায় সব নাগরিক সাধারণ পাসপোর্টের জন্যই আবেদন করেন।

আবেদন ও নবীকরণের কাজ হয় পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র (PSK) এবং ডাকঘর পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে (POPSK)। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া ও টাকা মেটানোর পুরোটাই অনলাইনে, পাসপোর্ট সেবা পোর্টালে হয়।

০২কারা আবেদন করতে পারেন

  • যে কোনও বয়সের ভারতীয় নাগরিক, নাবালকও। নাবালকের হয়ে বাবা-মা বা অভিভাবক আবেদন জমা দেন।
  • প্রথমবারের আবেদনকারী, যাঁরা নতুন সাধারণ পাসপোর্ট চান
  • বর্তমান পাসপোর্টধারী, যাঁরা নবীকরণ, হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে পুনর্বার ইস্যু, কিংবা নাম বা ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত তথ্য বদলের জন্য আবেদন করছেন
জেনে রাখুন: মেয়াদ ফুরনোর এক বছর আগে পর্যন্ত নবীকরণের আবেদন করা যায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছর পর পর্যন্তও আবেদনকে নতুন আবেদন ধরা হয় না। তবে ঠিক কত দিন ছাড় মেলে, আবেদনের আগে পোর্টালে সেটি মিলিয়ে নেওয়া ভাল।

০৩প্রয়োজনীয় নথি

বিভাগ অনুযায়ী প্রয়োজন কিছুটা আলাদা হয়। তবে প্রাপ্তবয়স্কের সাধারণ নতুন আবেদনে সাধারণত এগুলি লাগে।

  • পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ: আধার কার্ড, ভোটার আইডি, প্যান কার্ড বা সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল
  • জন্মতারিখের প্রমাণ: জন্ম সনদ, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, কিংবা জন্মতারিখ লেখা সরকার-প্রদত্ত ট্রান্সফার বা স্কুল সার্টিফিকেট
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট মাপের ছবি, পোর্টালে দেওয়া মাপ অনুযায়ী
  • স্ব-ঘোষণাপত্রের (সেলফ ডিক্লারেশন) সংযোজনী, কিছু ঠিকানা বা বিভাগের ক্ষেত্রে যেখানে প্রযোজ্য

নবীকরণ ও পুনর্বার ইস্যুর আবেদনে বর্তমান পাসপোর্টও দিতে হয়। হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হলে সঙ্গে লাগে পুলিশে অভিযোগের কপি অথবা ঘটনার বিবরণ-সহ হলফনামা।

০৪অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে

  1. পাসপোর্ট সেবা পোর্টালে গিয়ে ইমেল আইডি দিয়ে রেজিস্টার করুন। আগে থেকে করা থাকলে লগ ইন করুন।
  2. ড্যাশবোর্ড থেকে Apply for Fresh Passport/Reissue of Passport বেছে নিয়ে ব্যক্তিগত, ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করুন।
  3. ফর্ম সেভ করে জমা দিন। তার পর View Saved/Submitted Applications-এ গিয়ে Pay and Schedule Appointment বেছে নিন।
  4. প্রযোজ্য ফি অনলাইনে মিটিয়ে নিকটতম পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র বা ডাকঘর PSK-তে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় বুক করুন।
  5. অ্যাপয়েন্টমেন্টের রসিদ প্রিন্ট করুন, অথবা আবেদন রেফারেন্স নম্বর (ARN) লেখা SMS/ইমেলের নিশ্চিতকরণ সংরক্ষণ করুন।
  6. নির্ধারিত দিনে আসল নথি নিয়ে কেন্দ্রে যান। সেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয় এবং নথি সরাসরি যাচাই হয়।

০৫পাসপোর্টের ফি

প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য পাসপোর্ট সেবার সাধারণ ফি। অঙ্কগুলি সময়ে সময়ে বদলায়
বিভাগসাধারণতৎকাল
নতুন/পুনর্বার ইস্যু, ৩৬ পাতা, ১০ বছরের মেয়াদ₹2,500₹5,000
নতুন/পুনর্বার ইস্যু, ৬০ পাতা, ১০ বছরের মেয়াদ₹3,500₹6,000
নাবালকের পাসপোর্ট, ৩৬ পাতা (১৮ বছর বয়স বা ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ)₹1,750₹4,250
হারানো/চুরি যাওয়া/ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের পুনর্বার ইস্যু, ৩৬ পাতা₹5,000₹7,500
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC)₹750

নতুন আবেদনে ছোট শিশু ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সাধারণত ছাড় মেলে। নাম বা ঠিকানা বদল এবং অন্য কয়েকটি পুনর্বার ইস্যুর ক্ষেত্রে আলাদা ফি প্রযোজ্য। ফি ও বয়সের সীমা সময়ে সময়ে বদলায়। তাই টাকা দেওয়ার আগে পাসপোর্ট সেবার ফি ক্যালকুলেটরে সঠিক অঙ্ক মিলিয়ে নেওয়া ভাল।

০৬পুলিশ ভেরিফিকেশন

বেশির ভাগ নতুন আবেদনে প্রি-ভেরিফিকেশন হয়।

  1. PSK-র অ্যাপয়েন্টমেন্টের পর পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র আবেদনকারীর ঠিকানা ও পরিচয়ের তথ্য স্থানীয় থানায় পাঠায়।
  2. নির্ধারিত আধিকারিক উল্লিখিত ঠিকানায় গিয়ে বসবাস যাচাই করেন। সেই সময় আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হয় বা যোগাযোগের মধ্যে থাকতে হয়।
  3. আধিকারিক পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে রিপোর্ট পাঠান। রিপোর্টে লেখা থাকে ‘ক্লিয়ার’, ‘অসম্পূর্ণ’ অথবা ‘প্রতিকূল’।
  4. রিপোর্ট ক্লিয়ার হলে পাসপোর্ট ছাপা হয় এবং সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে স্পিড পোস্টে পাঠানো হয়।

তৎকাল, সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টে সাধারণত পোস্ট-ভেরিফিকেশন হয়। অর্থাৎ আগে পাসপোর্ট দেওয়া হয়, পুলিশ ভেরিফিকেশন হয় পরে। রিপোর্ট ‘অসম্পূর্ণ’ বা ‘প্রতিকূল’ হলে সমস্যা না মেটা পর্যন্ত পাসপোর্ট দিতে দেরি হতে পারে বা আটকে যেতে পারে।

০৭আবেদনের অবস্থা দেখা

  • অনলাইনে: পাসপোর্ট সেবা পোর্টালে লগ ইন করে আবেদন রেফারেন্স নম্বর (ARN) বা ফাইল নম্বর দিয়ে Track Application Status খুলুন।
  • SMS-এ: 9704 100 100 নম্বরে “STATUS <ফাইল নম্বর>” লিখে পাঠান।
  • অ্যাপে: সরকারি mPassport Seva মোবাইল অ্যাপে একই রেফারেন্স তথ্য দিয়ে অগ্রগতি দেখা যায়।

০৯প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সাধারণ পাসপোর্ট হাতে আসতে কত সময় লাগে?

পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ক্লিয়ার এলে সাধারণত PSK-র অ্যাপয়েন্টমেন্টের কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাঠানো হয়। তৎকাল আবেদন সাধারণত দ্রুত হয়, কারণ ভেরিফিকেশন হয় পাসপোর্ট দেওয়ার পরে।

পাসপোর্টের আবেদনে আধার কি বাধ্যতামূলক?

কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই সহজ হয় এবং প্রক্রিয়াকরণের সময় কমতে পারে বলে বহুল ব্যবহৃত ও সুপারিশ করা হয়।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কি নবীকরণের আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ, মেয়াদ ফুরনোর আগেই নবীকরণের আবেদন করা যায়। মেয়াদ পেরিয়ে অনেক দেরি হলে বাড়তি নথি-সহ পুনর্বার ইস্যু হিসেবে আবেদন করতে হতে পারে। তাই বর্তমান ছাড়ের সময়সীমা পোর্টালে দেখে নেওয়া ভাল।

পুলিশ ভেরিফিকেশন ‘প্রতিকূল’ এলে কী হয়?

‘প্রতিকূল’ রিপোর্ট এলে অসঙ্গতি না মেটা পর্যন্ত পাসপোর্ট দেওয়া সাধারণত আটকে থাকে। পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বাড়তি নথি বা ব্যাখ্যা জমা দিতে হতে পারে।

নাবালকেরও কি আলাদা পাসপোর্ট লাগে?

হ্যাঁ। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বয়স যা-ই হোক, প্রত্যেকের নিজের পাসপোর্ট লাগে। নাবালকের হয়ে বাবা-মা বা অভিভাবক আবেদন করেন।

পাসপোর্ট সেবার বর্তমান পদ্ধতি, ফি ও নথির তালিকা অনুযায়ী এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সবসময় সরকারি পাসপোর্ট সেবা পোর্টাল বা উপরের হেল্পলাইন দেখুন।