রেজিনগর উপনির্বাচন: ৭৫,৮১৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী বিজেপির শঙ্খরাভ সরকার
অবস্থা: ফলাফল ঘোষিত। শেষ হালনাগাদ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬।CoreSignal বাংলা
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের (Rejinagar bypoll result) ভোটগণনা শুক্রবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। জয় এসেছে স্পষ্ট ব্যবধানে, বিজেপির ঘরে। প্রায় ২.৫৭ লক্ষ ভোটারের এই কেন্দ্রে লড়েছেন ১৪ জন প্রার্থী। রাউন্ড অনুযায়ী গণনার হিসাব ও চূড়ান্ত ফল নিচে দেওয়া হলো, সবচেয়ে নতুন আপডেট সবার ওপরে।
চূড়ান্ত ফল এক নজরে
| প্রার্থী | দল | প্রাপ্ত ভোট |
|---|---|---|
| শঙ্খরাভ সরকার (জয়ী) | বিজেপি | ১,২৯,৯১৪ |
| গোলাম নবি আজাদ (রবিন) | AJUP | ৫৪,০৯৮ |
| আবদুল্লাহিল কাফি | কংগ্রেস | ৬,১৬৮ |
| রবিউল আলম চৌধুরী | মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস | ৩,৮৪৭ |
জয়ের ব্যবধান: ৭৫,৮১৬ ভোট। নির্বাচন কমিশনের (ECI) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যাগুলি সংবাদমাধ্যমে এসেছে। প্রত্যয়িত চূড়ান্ত গণনা ECI-র ফলাফল পোর্টালে ৭০ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের (Assembly Constituency 70) অধীনে দেখা যাবে।
লাইভ আপডেট: Rejinagar bypoll result
শনিবার, ১০ অক্টোবর: ফল স্পষ্ট, রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে
রেজিনগরের ফলাফল এখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে দেশজোড়া বিতর্কের মধ্যেই এসে পড়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার INDIA জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে মিছিল করেন। সে সময় মধ্য দিল্লিতে ২০,০০০-এর বেশি পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন ছিল। রেজিনগরের ফলের সঙ্গে CEC-র কোনও যোগসূত্রের কথা কোনও প্রতিবেদনে বলা হয়নি, গণনা নিয়েও কোনও অভিযোগের খবর মেলেনি।
সন্ধ্যা ৬:২৪, ৯ অক্টোবর: জয়ী ঘোষিত শঙ্খরাভ সরকার
বিজেপির শঙ্খরাভ সরকার মোট ১,২৯,৯১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, CoreSignal-এর নিশ্চিত করা তথ্য অনুযায়ী। AJUP-র আজাদ পেয়েছেন ৫৪,০৯৮ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭৫,৮১৬।
দুপুর ২:০৩: ১৫টির মধ্যে সাত রাউন্ড শেষে সরকার ৩৭,৫০৬ ভোটে এগিয়ে
বিজেপি প্রার্থী তখন ৬১,৩৮৬ ভোটে, আজাদ ২৩,৮৮০। কংগ্রেসের কাফি পেয়েছিলেন ২,৮৯৩ এবং মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চৌধুরী ২,৮৬২। পাশের নন্দীগ্রামে ১৫টির মধ্যে ১২ রাউন্ড শেষে বিজেপির হাসি রানি রথ ৯৭,৫২২ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
দুপুর ১:১৩: লিড ৩৪,০০০ ছাড়াল
পঞ্চম রাউন্ডের পর সরকারের লিড দাঁড়ায় ৩৪,৫০১ ভোট। বিজেপির জয় তখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে এসেছিল।
সকাল ১১:২১: প্রথম রাউন্ডে বিজেপির লিড
NewsX-এর সম্প্রচারিত ECI-র ট্রেন্ড অনুযায়ী, প্রথম EVM রাউন্ডের পর সরকার ১১,০৩৩ ভোটে এগিয়ে যান। সেই সময় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন কাফি, তৃতীয় স্থানে আজাদ।
সকাল ১০:৩২: সংখ্যালঘু-প্রধান আসনে ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা
কংগ্রেসের তুলনায় বিজেপির লিড তখন প্রায় ৬,০০০ ভোটের। ওই লাইভ ব্লগেই উল্লেখ ছিল, রেজিনগর সংখ্যালঘু-প্রধান কেন্দ্র, যেখানে ভোটারদের ৬৫ শতাংশের বেশি মুসলিম। সেই কারণেই শুরুর এই প্রবণতা নজর কেড়েছিল।
সকাল ৯:৪৮: পোস্টাল ব্যালট গণনার মধ্যেই বিজেপির এগিয়ে থাকা
পোস্টাল ব্যালট গোনা চলার সময়ই প্রথম ট্রেন্ডে এগিয়ে যান সরকার।
সকাল ৮:০০: গণনা শুরু
প্রথমে পোস্টাল ব্যালট ও ইলেকট্রনিক্যালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট গোনা হয়। তার পর দুটি হলে ১৫ রাউন্ডে EVM-এর ভোট গণনা। মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর এটিই বিজেপির প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষা। তবে বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জেতায় এই ফল রাজ্য সরকারের স্থিতিতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না।
গণনার দিন পর্যন্ত যা ঘটেছে
৭ অক্টোবর: AJUP প্রধান হুমায়ুন কবীর সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন বিজেপির পক্ষ নিচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তিনি মুসলিম ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা করে দেন। কবীর এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
৬ অক্টোবর, ভোটের দিন: বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৭৮.৪২ শতাংশ, ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ। নিজের দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের পর কবীর গ্রেপ্তার হন। এই গ্রেপ্তার নিয়ে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করে। কাফি রেজিনগর থানার সামনে ধরনায় বসেন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন।
ফাঁকা ছিল রেজিনগর আসন: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা, দুই আসনেই জিতেছিলেন এবং নওদা রেখে দেন। নির্বাচন কমিশন ৭ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন ঘোষণা করে। তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ AJUP-র টিকিটে প্রার্থী হন।
