এসভিএমসিএম স্কলারশিপ (SVMCM Scholarship): যোগ্যতা, বৃত্তির অঙ্ক ও আবেদনের পদ্ধতি
পশ্চিমবঙ্গের স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস বৃত্তি। নিম্ন আয়ের পরিবারের মেধাবী পড়ুয়াদের একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত প্রতি মাসে অর্থ দেওয়া হয়।
০১এসভিএমসিএম স্কলারশিপ কী (What is SVMCM Scholarship)?
স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস (এসভিএমসিএম) স্কলারশিপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বৃত্তি, যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের, কারিগরি পাঠ্যক্রম-সহ, সহায়তা করে। বৃত্তির টাকা প্রতি মাসে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের (ডিবিটি) মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যায়, আর প্রতিটি আবেদন যাচাই করেন পড়ুয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
নাম থেকেই বোঝা যায়, নির্বাচনে দুটি বিষয় দেখা হয়: মেধা (আগের পরীক্ষার নম্বর) এবং সামর্থ্য (পরিবারের আয়)।
০২কারা যোগ্য
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা (ডোমিসাইল)
- পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। কন্যাশ্রী (কে৩) পথে আবেদনকারীদের আয়ের সার্টিফিকেট লাগে না
- যোগ্যতামান পরীক্ষায় ন্যূনতম নম্বর: একাদশ-দ্বাদশ ও স্নাতক আবেদনকারীদের জন্য ৬০%; সাধারণ স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমে ৫৩% এবং ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি ও ফার্মাসি স্নাতকোত্তরে ৫৫%
- পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
- একই পাঠ্যক্রমের জন্য অন্য কোনও বৃত্তি আগে থেকে না পাওয়া
০৩কত টাকা পাওয়া যায়
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অর্থপ্রদান | প্রতি মাসে, ডিবিটি-র মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে |
| জানানো পরিসর | পাঠ্যক্রম অনুযায়ী মাসে ১,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা |
| মঞ্জুরি | সংশ্লিষ্ট বছরের বাজেট ও যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল |
স্তর অনুযায়ী মাসিক অঙ্কের পূর্ণ তালিকা কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনও অঙ্কের ওপর ভরসা করার আগে নিজের পাঠ্যক্রমের চলতি হার পোর্টালে দেখে নিন।
০৪প্রয়োজনীয় নথি
- মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড/মার্কশিট এবং শেষ পাস করা পরীক্ষার মার্কশিট (দুই পিঠই)
- চলতি পাঠ্যক্রমের ভর্তির রসিদ
- আয়ের সার্টিফিকেট (কন্যাশ্রী কে৩ আবেদনকারীদের লাগে না)
- ডোমিসাইল/বাসস্থানের সার্টিফিকেট
- ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতা, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC-সহ
- আধার কার্ড এবং সাম্প্রতিক ছবি
০৫আবেদনের পদ্ধতি
- এসভিএমসিএম পোর্টাল (svmcm.wbhed.gov.in) খুলে নিবন্ধন করুন এবং অ্যাপ্লিকান্ট আইডি নিন।
- লগ ইন করে ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত, ব্যাঙ্ক ও আয়ের তথ্য পূরণ করুন।
- প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
- ফর্ম জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র প্রিন্ট করুন।
- প্রিন্ট করা ফর্ম ও স্বপ্রত্যয়িত নথি প্রতিষ্ঠানে জমা দিন। প্রতিষ্ঠান যাচাই করে আবেদন এগিয়ে দেয়।
- লগ ইন করে “Track Application” থেকে অগ্রগতি দেখুন।
০৬নবীকরণ ও আবেদনের অবস্থা
- নবীকরণ: প্রথম চেষ্টাতেই সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরের শ্রেণিতে উঠলে এক মাসের মধ্যে আবার আবেদন করতে হবে। দ্বাদশ থেকে স্নাতকে নবীকরণে ৬০% এবং স্নাতকোত্তরে নবীকরণে ৫০% নম্বর লাগে।
- অবস্থা: লগ ইন করে “Track Application” খুলুন। সাধারণত অবস্থা বদলায় যাচাইয়াধীন, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছে অপেক্ষমাণ থেকে এগিয়ে দেওয়া, অনুমোদিত বা বাতিল পর্যন্ত।
- আবেদন বাতিল হলে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলুন। আবেদনের পাশে লেখা কারণ প্রতিষ্ঠান দেখতে পায়।
০৭সরকারি লিংক
সরকারি পোর্টালে কোনও যোগাযোগ নম্বর যাচাই করা যায়নি। প্রশ্ন থাকলে প্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপ সেলে বা পোর্টালে দেওয়া হেল্পডেস্কে জানানোই ভালো।
০৮প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
এসভিএমসিএম-এ কি আয়সীমা আছে?
হ্যাঁ, পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তবে কন্যাশ্রী (কে৩) পথে আবেদন করলে আয়ের সার্টিফিকেট লাগে না।
এসভিএমসিএম এবং অন্য বৃত্তি কি একসঙ্গে পাওয়া যায়?
একই পাঠ্যক্রমের জন্য নয়। ওই পাঠ্যক্রমে আগে থেকেই অন্য বৃত্তি পেলে সাধারণত যোগ্য হওয়া যায় না।
সরকারের কাছে আবেদন কে জমা দেয়?
পড়ুয়া অনলাইনে আবেদন করে প্রিন্ট করা ফর্ম প্রতিষ্ঠানে জমা দেয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান যাচাই করে তা এগিয়ে পাঠান।
এসভিএমসিএম কি স্নাতকোত্তর ও কারিগরি পাঠ্যক্রমেও চলে?
হ্যাঁ। একাদশ-দ্বাদশ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, কারিগরি পাঠ্যক্রম-সহ, সবই এর আওতায়, তবে ন্যূনতম নম্বর আলাদা।
এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। বৃত্তির অঙ্ক, তারিখ ও পোর্টাল প্রতি বছর বদলায়; সবচেয়ে সঠিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সরকারি পোর্টাল বা প্রতিষ্ঠানের নোটিস বোর্ড দেখুন।
