Share
Link copied
নবান্ন স্কলারশিপ (Nabanna Scholarship)
বৃত্তি ও শিক্ষার্থী প্রকল্প

নবান্ন স্কলারশিপ (Nabanna Scholarship): যোগ্যতা, বৃত্তির অঙ্ক ও আবেদনের পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া শিক্ষাসহায়তা, যা সাধারণভাবে নবান্ন স্কলারশিপ নামে পরিচিত। এসভিএমসিএম-এর জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর সামান্য কম পড়লে এই সহায়তার কথা ভাবা যায়।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদসূত্র মিলিয়ে দেখা হয়েছে, অক্টোবর ২০২৬ পড়তে ৮ মিনিট দপ্তর: মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (সিএমআরএফ), পশ্চিমবঙ্গ সরকার

০১নবান্ন স্কলারশিপ কী (What is Nabanna Scholarship)?

“নবান্ন স্কলারশিপ” নামটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (সিএমআরএফ) থেকে দেওয়া শিক্ষাসহায়তার প্রচলিত নাম। নবান্ন হল রাজ্যের প্রশাসনিক সচিবালয়। সিএমআরএফ পোর্টালে রাজ্যের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য শিক্ষাসহায়তার কথা উল্লেখ আছে।

এটি এসভিএমসিএম স্কলারশিপ থেকে আলাদা প্রকল্প, এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তর এটি চালায় না। মূলত নিম্ন আয়ের পরিবারের সেই পড়ুয়াদের কথা ভেবেই এর ব্যবস্থা, যাদের নম্বর এসভিএমসিএম-এর সীমার একটু নীচে থেকে যায়।

নাম প্রসঙ্গে: সিএমআরএফ-এর সরকারি পাতায় “নবান্ন স্কলারশিপ” শিরোনামটি ব্যবহার করা হয় না; এই নামটি চালু করেছে বিভিন্ন বৃত্তি-নির্দেশিকা। নীচের বেশ কিছু তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তির বদলে সেই নির্দেশিকা থেকে নেওয়া, তাই সিএমআরএফ পোর্টালে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

০২কারা যোগ্য

  • পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা
  • পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পাঠরত
  • পরিবারের বার্ষিক আয় ১.২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত (যেমন জানা গেছে)
  • আগের পরীক্ষায় মোটামুটি ৫০% থেকে ৬০%-এর কম নম্বর (স্নাতকোত্তরে ৫৩%-এর কম, যেমন জানা গেছে)
  • একই পাঠ্যক্রমের জন্য অন্য কোনও বৃত্তি না পাওয়া

০৩কত টাকা পাওয়া যায়

নবান্ন (সিএমআরএফ শিক্ষাসহায়তা), যেমন জানা গেছে
পাঠ্যক্রমের ধরনআনুমানিক অঙ্ক
সাধারণ পাঠ্যক্রমবছরে প্রায় ১০,০০০ টাকা
পেশাদারি পাঠ্যক্রমবছরে প্রায় ১২,০০০ টাকা

এই অঙ্কগুলি পরোক্ষ সূত্র থেকে পাওয়া আনুমানিক হিসেব; সিএমআরএফ পোর্টালে নির্দিষ্ট হারের কোনও তালিকা প্রকাশিত নেই।

০৪প্রয়োজনীয় নথি

  • শেষ পরীক্ষার মার্কশিট এবং ভর্তির রসিদ
  • ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতা
  • আয়ের সার্টিফিকেট (কোন কর্তৃপক্ষ দেবে, তা বিভিন্ন নির্দেশিকায় আলাদা ভাবে লেখা আছে; সিএমআরএফ পোর্টালে নিশ্চিত করে নিন)
  • স্কুল বা কলেজের প্রধানের প্রত্যয়ন করা স্বঘোষণাপত্র
  • নির্দেশিকা অনুযায়ী বিধায়ক বা সাংসদের সুপারিশপত্র এবং মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা আবেদনপত্র
  • সাম্প্রতিক ছবি; স্ক্যান করা আপলোড সাধারণত প্রতিটি প্রায় ৫০০ কেবি-র মধ্যে হতে হয়

০৫আবেদনের পদ্ধতি

  1. সিএমআরএফ পোর্টাল (cmrf.wb.gov.in) খুলে মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিয়ে সাইন আপ করুন।
  2. শিক্ষাসহায়তার ফর্ম পূরণ করুন এবং নিবন্ধনের পর দেখানো সময়সীমার মধ্যে (জানা গেছে ৯০ দিন) নথি আপলোড করুন।
  3. ফর্ম জমা দিয়ে রেফারেন্স আইডি সংরক্ষণ করুন।
  4. নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ ইন করে আবেদনের অবস্থা দেখুন।
আবেদন শুধু অনলাইনে, না মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ডাকযোগেও নেওয়া হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে মতভেদ আছে। চলতি বছরের জন্য সিএমআরএফ পোর্টালের নির্দেশ মেনে চলুন, আর ফি নিয়ে আবেদন করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া দালাল থেকে সাবধান থাকুন।

০৬আবেদনের অবস্থা দেখা

  • সিএমআরএফ পোর্টালে লগ ইন করুন। জানা অবস্থাগুলির মধ্যে আছে “Applied”, “Under Process” এবং নথি কম থাকলে “Please Resubmit”।
  • প্রক্রিয়াকরণে অন্তত তিন মাস লাগে বলে জানা গেছে, আর কোনও সর্বজনবিদিত নির্দিষ্ট শেষ তারিখ নেই।
  • বৃত্তি-নির্দেশিকা অনুযায়ী নবীকরণ প্রতি বছর পোর্টালের নবীকরণ বিকল্পের মাধ্যমে করতে হয়।

০৮প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

নবান্ন স্কলারশিপ কি এসভিএমসিএম-এর মতোই?

না। এসভিএমসিএম চালায় উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং সেখানে বেশি নম্বর লাগে। নবান্ন স্কলারশিপ হল সিএমআরএফ-এর শিক্ষাসহায়তা, যা এসভিএমসিএম-এর সীমা ছুঁতে না পারা পড়ুয়াদের জন্য।

আবেদনের কি কোনও শেষ তারিখ আছে?

নির্দেশিকাগুলি অনুযায়ী কোনও নির্দিষ্ট সর্বজনীন সময়সীমা নেই। তবে পোর্টালের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তিকেই চূড়ান্ত বলে ধরা উচিত।

এসভিএমসিএম এবং নবান্ন কি একসঙ্গে পাওয়া যায়?

একই পাঠ্যক্রমের জন্য নয়। একই পাঠ্যক্রমে অন্য বৃত্তি পেলে সাধারণত পড়ুয়া যোগ্য থাকেন না।

সুপারিশপত্র কি সত্যিই লাগে?

কিছু নির্দেশিকায় বিধায়ক/সাংসদের সুপারিশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠির কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে কী লাগে, তা পোর্টালে নিশ্চিত করে নেওয়া দরকার।

এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। বৃত্তির অঙ্ক, তারিখ ও পোর্টাল প্রতি বছর বদলায়; সবচেয়ে সঠিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সরকারি পোর্টাল বা প্রতিষ্ঠানের নোটিস বোর্ড দেখুন।