পশ্চিমবঙ্গে লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট (West Bengal Legal Heir Certificate): যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদনের পদ্ধতি
মৃত ব্যক্তির আইনসম্মত উত্তরাধিকারীদের নাম নিশ্চিত করে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া সার্টিফিকেট। পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির নথি হস্তান্তরে এবং সহানুভূতির ভিত্তিতে চাকরির দাবিতে এটি কাজে লাগে।
০১উত্তরাধিকার (লিগ্যাল হেয়ার) সার্টিফিকেট কী (What is a Legal Heir Certificate)?
লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট, যাকে অনেকে ওয়ারিশ সার্টিফিকেটও বলেন, হল মৃত ব্যক্তির আইনসম্মত উত্তরাধিকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করার সরকারি নথি। গ্রামাঞ্চলে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং শহরাঞ্চলে পুরসভা বা পুরনিগম স্থানীয় যাচাইয়ের পর এটি দেয়। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বিমা ও অন্যান্য পাওনা কারা পাবেন, প্রশাসনিক কাজে তা এই সার্টিফিকেটেই প্রমাণ হয়।
আদালত থেকে দেওয়া সাকসেশন সার্টিফিকেটের তুলনায় এটি সহজ ও দ্রুত বিকল্প। নিয়মমাফিক প্রশাসনিক হস্তান্তরে সাধারণত এটি গ্রহণ করা হয়। তবে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বড় অঙ্কের সম্পত্তির লেনদেনে দেওয়ানি আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেটও চাওয়া হতে পারে।
০২কাদের লাগে
- মৃত ব্যক্তির পেনশন, গ্র্যাচুইটি বা প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট নিজের নামে করতে চান এমন পরিবারের সদস্য
- কোনও কর্মীর মৃত্যুর পর সহানুভূতির ভিত্তিতে সরকারি চাকরির দাবি জানাচ্ছেন এমন উত্তরাধিকারী
- মৃত ব্যক্তির নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমার টাকা বা ইউটিলিটি সংযোগ হস্তান্তর কিংবা নামান্তর করতে চান এমন পরিবারের সদস্য
- সম্পত্তি বা জমির রেকর্ডের জন্য মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের লিখিত প্রমাণ দরকার, এমন উত্তরাধিকারী
০৩প্রয়োজনীয় নথি
- মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ
- আবেদনকারীর (একজন উত্তরাধিকারী) পরিচয়ের প্রমাণ: আধার, ভোটার আইডি বা অনুরূপ কোনও নথি
- অন্য সব উত্তরাধিকারীর পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ, যতটা পাওয়া যায়
- মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ: পরিবারের সদস্যদের নাম থাকা রেশন কার্ড, জন্ম সনদ অথবা বিবাহের সার্টিফিকেট
- আবেদনকারীর বাসস্থানের প্রমাণ
- জীবিত সব উত্তরাধিকারীর নাম উল্লেখ করা স্বঘোষণাপত্র বা হলফনামা
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট মাপের ছবি
০৪আবেদনের পদ্ধতি
- পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নাগরিক পোর্টালে যান: wbpms.in/citizen। চাইলে সরাসরি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেও যেতে পারেন।
- নিবন্ধন করুন বা লগ ইন করে লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট পরিষেবাটি বেছে নিন।
- মৃত ব্যক্তির বিবরণ, মৃত্যুর তারিখ এবং জীবিত সব উত্তরাধিকারীর নাম, বয়স ও সম্পর্ক লিখুন।
- মৃত্যু সনদ, পরিচয়ের প্রমাণ এবং সম্পর্কের প্রমাণপত্র আপলোড করুন।
- আবেদন জমা দিন। গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা/পুরনিগম পরিবারের তথ্য স্থানীয়ভাবে যাচাই করে, প্রায়ই স্থানীয় তদন্তের মাধ্যমে বা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য/পঞ্চায়েত সদস্যের সহায়তায়।
- যাচাইয়ে সন্তুষ্ট হলে সব উত্তরাধিকারীর নাম-সহ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
অফলাইনেও আবেদন করা যায়: প্রয়োজনীয় নথি-সহ আবেদনপত্র সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা/পুরনিগম অফিসে জমা দিতে হবে।
০৬অবস্থা দেখা ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড
- অনলাইনে: আবেদনের রেফারেন্স নম্বর দিয়ে wbpms.in/citizen-এ লগ ইন করে অগ্রগতি দেখুন।
- সরাসরি: প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা/পুরনিগম অফিসে যান।
- অনুমোদনের পর অফিস থেকে ছাপা কপি নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণত পোর্টাল থেকেও সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা যায়।
০৭সরকারি লিংক ও যোগাযোগ
০৮প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট কি সাকসেশন সার্টিফিকেটের মতোই?
না। লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট স্থানীয়ভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা দেয় এবং নিয়মমাফিক প্রশাসনিক হস্তান্তরে উত্তরাধিকারী চিহ্নিত করতে কাজে লাগে। সাকসেশন সার্টিফিকেট দেয় দেওয়ানি আদালত; বিতর্কিত বা বড় অঙ্কের উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়ে তার আইনি ওজন বেশি।
এই সার্টিফিকেট সাধারণত কীসের জন্য লাগে?
পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হস্তান্তর, বিমার টাকা দাবি, সহানুভূতির ভিত্তিতে সরকারি চাকরির আবেদন এবং সম্পত্তির নামান্তরের নথি হিসেবে।
কে আবেদন করতে পারেন?
মৃত ব্যক্তির যে কোনও আইনসম্মত উত্তরাধিকারী, সাধারণত স্ত্রী/স্বামী, সন্তান বা বাবা-মা, আবেদন করতে পারেন। আবেদনে জীবিত অন্য সব উত্তরাধিকারীর নামও উল্লেখ করতে হবে।
পেতে কতদিন লাগে?
সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ। জমা দেওয়া পারিবারিক তথ্য ও সম্পর্কের প্রমাণ স্থানীয় সংস্থা কত দ্রুত যাচাই করতে পারছে, তার ওপর সময় নির্ভর করে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট পদ্ধতি অনুযায়ী এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। সবচেয়ে সঠিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সরকারি পোর্টাল বা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত/পুরসভা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
