পশ্চিমবঙ্গের কাস্ট সার্টিফিকেট (West Bengal Caste Certificate-SC/ST/OBC): যোগ্যতা, নথি ও আবেদনের পদ্ধতি
তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সদস্য হওয়ার প্রমাণ। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর এটি দেয়। সংরক্ষিত শ্রেণিতে ভর্তি, চাকরি ও প্রকল্পের সুবিধায় লাগে।
০১কাস্ট সার্টিফিকেট কী (What is a Caste Certificate)?
কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্র হল সরকারি নথি, যাতে প্রমাণ হয় যে ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গে স্বীকৃত তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST) বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC-A বা OBC-B) কোনও সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর ব্লক বা মহকুমা স্তরে যাচাইয়ের পর এটি দেয়। সংরক্ষিত শ্রেণিতে ভর্তি, সরকারি চাকরির আবেদন এবং বিভাগভিত্তিক সুবিধাযুক্ত আয়-সংযুক্ত বেশ কিছু কল্যাণ প্রকল্পে এটি লাগে।
তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সার্টিফিকেটে পশ্চিমবঙ্গের আইনসম্মতভাবে স্বীকৃত সম্প্রদায়ের তালিকা অনুযায়ী বিভাগ উল্লেখ থাকতে হয়।
০২কারা যোগ্য
- পশ্চিমবঙ্গে আইনসম্মতভাবে বসবাসকারী ব্যক্তি, যিনি রাজ্যের সরকারি তালিকায় SC, ST, OBC-A বা OBC-B হিসেবে থাকা কোনও সম্প্রদায়ের
- যাঁর রক্তের সম্পর্কের কেউ (বাবা, ঠাকুরদা বা অন্য নির্দিষ্ট আত্মীয়) আগে থেকেই বৈধ SC/ST/OBC সার্টিফিকেট পেয়েছেন। সেই সার্টিফিকেটের তথ্য দিলে আবেদন জোরদার হয়।
- সংরক্ষিত শ্রেণিতে ভর্তি বা বৃত্তির সুবিধার জন্য শিক্ষাবর্ষের আগে আবেদনকারী ছাত্রছাত্রী
০৩প্রয়োজনীয় নথি
- পূরণ করা আবেদনপত্র (SC/ST এবং OBC-র ক্ষেত্রে বিবরণ সামান্য আলাদা)
- পাসপোর্ট মাপের ছবি
- পশ্চিমবঙ্গের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট
- আয়ের সার্টিফিকেট
- বৈধ পরিচয়ের প্রমাণ: EPIC (ভোটার আইডি), আধার, অথবা রেশন কার্ডের তথ্য (AAY, PHH, SPHH, RKSY-I, RKSY-II বা খাদ্যসাথী নম্বর)
- বয়সের প্রমাণ
- প্রযোজ্য হলে রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের বর্তমান SC/ST/OBC সার্টিফিকেটের তথ্য: নাম, সার্টিফিকেট নম্বর, ইস্যুর তারিখ, সম্পর্ক ও ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ
- দু’জন স্থানীয় রেফারির নাম ও ঠিকানা
- আবেদনকারী বা তাঁর পরিবার অন্য রাজ্য বা দেশ থেকে এলে মাইগ্রেশন সার্টিফিকেটের তথ্য
০৪অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
- পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নাগরিক পোর্টাল wbpms.in/citizen-এ যান, অথবা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের SC/ST/OBC আবেদনের নির্দিষ্ট সাইটে যান।
- নতুন আবেদনকারী হিসেবে রেজিস্টার করে শুরুর আগে আবেদনের নির্দেশিকা পড়ে নিন।
- রাজ্য, জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত/ওয়ার্ড বেছে নিন। তার পর বিভাগ (SC, ST, OBC-A বা OBC-B) এবং নির্দিষ্ট জাতি, উপজাতি বা সম্প্রদায় ঠিক করুন।
- নাম, বাবার নাম, লিঙ্গ, ধর্ম, জন্মতারিখ ও জন্মস্থান এবং যোগাযোগের তথ্য লিখুন।
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিন। প্রযোজ্য হলে রক্তের সম্পর্কের সার্টিফিকেটের তথ্যও দিন।
- আবেদনের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারেন এমন দু’জন স্থানীয় রেফারির নাম ও ঠিকানা দিন।
- সহায়ক নথি আপলোড করুন: ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, আয়ের সার্টিফিকেট, পরিচয়ের প্রমাণ ও ছবি।
- আবেদন পর্যালোচনার জন্য জমা দিন। সার্টিফিকেট দেওয়ার আগে স্থানীয় ব্লক বা মহকুমা কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করেন।
অফলাইন পথও আছে। জেলা বা ব্লক প্রশাসনের দপ্তর থেকে আবেদনপত্র নিয়ে পূরণ করুন, গেজেটেড অফিসারকে দিয়ে প্রত্যয়িত করিয়ে সার্কেল অফিসারের পর্যালোচনার জন্য জমা দিন।
০৬অবস্থা দেখা ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড
- অনলাইনে: আবেদনের রেফারেন্স নম্বর দিয়ে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইন করে “Post Review” বা স্ট্যাটাস/ট্র্যাক অংশ দেখুন।
- সরাসরি গিয়ে: অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে যেমন বলা হয়, জমা দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর স্থানীয় ব্লক অফিসে যান।
- পর্যালোচনায় ভুল ধরা পড়ে আবেদন ফেরত এলে তা সংশোধন করে আবার জমা দেওয়া যায়, তখন নতুন করে পর্যালোচনা হয়।
০৭সরকারি লিঙ্ক ও সহায়তা
০৮প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গে কাস্ট সার্টিফিকেটের আবেদনে কি ফি লাগে?
না। SC/ST/OBC কাস্ট সার্টিফিকেটের জন্য কোনও আবেদন ফি নেওয়া হয় না।
আত্মীয়ের আগে থেকে সার্টিফিকেট থাকলে আবেদনে কী সহায়ক নথি দিতে হয়?
সেই আত্মীয়ের সার্টিফিকেট নম্বর, ইস্যুর তারিখ, ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ এবং আবেদনকারীর সঙ্গে সম্পর্ক। সঙ্গে স্বাভাবিক পরিচয় ও ডোমিসাইল নথি জমা দিতে হয়।
পশ্চিমবঙ্গে OBC-র কি উপবিভাগ আছে?
হ্যাঁ। আবেদনের সময় OBC আবেদনকারীরা OBC-A ও OBC-B-র মধ্যে একটি বেছে নেন এবং OBC-দের জন্য নির্দিষ্ট আরও একটি ফর্মের পাতা পূরণ করেন।
জমা দেওয়ার পর কি আবেদন সংশোধন করা যায়?
হ্যাঁ। পর্যালোচনার সময় কোনও ভুল ধরা পড়লে তা শুধরে আবার জমা দেওয়া যায়। তার পর আবেদন আরও এক দফা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের বর্তমান পদ্ধতি অনুযায়ী এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সবসময় সরকারি পোর্টাল বা স্থানীয় ব্লক/মহকুমা দপ্তর দেখুন।
