পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় পঞ্চায়েত / পুরসভা সার্টিফিকেট (West Bengal Municipality/Local Panchayat Certificate): যোগ্যতা, নথি ও আবেদনের পদ্ধতি
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভার দেওয়া বাসিন্দা সার্টিফিকেট। কোথায় থাকেন তার প্রমাণ হিসেবে স্কুলে ভর্তি, প্রকল্পের আবেদন এবং অন্য সার্টিফিকেটের সহায়ক নথি হিসেবে লাগে।
০১স্থানীয় পঞ্চায়েত / পুরসভা সার্টিফিকেট কী (What is a Municipality/Local Panchayat Certificate)?
স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভার সার্টিফিকেটকে অনেকেই বাসিন্দা সার্টিফিকেট বলেন। গ্রামাঞ্চলে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং শহরাঞ্চলে পুরসভা বা পুর নিগম এটি দেয়। এতে প্রমাণ হয় যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংস্থার এলাকায় বসবাস করেন। এর পরিধি রাজ্যের ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের চেয়ে ছোট, কারণ ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পুরো পশ্চিমবঙ্গে বসবাস বোঝায়। স্থানীয় স্তরে ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সাধারণত আধার বা ভোটার আইডির সঙ্গে এটি চাওয়া হয়।
স্কুল ও কলেজে ভর্তি এবং স্থানীয় প্রকল্পের আবেদনে এটি সচরাচর কাজে লাগে। আয়ের সার্টিফিকেট বা কাস্ট সার্টিফিকেটের আবেদনেও সহায়ক নথি হিসেবে এটি দিতে হয়।
০২কারা যোগ্য
- নির্দিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা বা পুর নিগমের ওয়ার্ডের বাসিন্দা, যিনি সেখানে টানা কিছুদিন বসবাস করছেন। সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর ধরা হয়। তবে সহায়ক প্রমাণ থাকলে কিছু দপ্তর অল্প দিনের বসবাসেও সার্টিফিকেট দেয়।
- সেই স্থানীয় সংস্থার এলাকার মধ্যে বৈধ ঠিকানার প্রমাণ আছে এমন সম্পত্তির মালিক বা ভাড়াটে
- ভর্তি বা প্রকল্পের যোগ্যতার জন্য স্থানীয় বসবাসের প্রমাণ দরকার এমন ছাত্রছাত্রী বা কর্মী
০৩প্রয়োজনীয় নথি
- পূরণ করা আবেদনপত্র, যা স্থানীয় পঞ্চায়েত/পুরসভা দপ্তর বা অনলাইন পোর্টালে পাওয়া যায়
- পরিচয়ের প্রমাণ: আধার কার্ড, ভোটার আইডি বা প্যান কার্ড
- ঠিকানার প্রমাণ: বিদ্যুতের বিল, রেশন কার্ড বা ভাড়ার চুক্তিপত্র
- জমি বা সম্পত্তির নথি, যেখানে প্রযোজ্য: বিক্রির দলিল, দখলের নথি বা সম্পত্তি করের রসিদ
- পাসপোর্ট মাপের ছবি
- স্থানীয় দপ্তর আরও কোনও নথি চাইলে সেটিও
০৪অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
- পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নাগরিক পোর্টাল wbpms.in/citizen-এ যান।
- মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে নতুন নাগরিক হিসেবে রেজিস্টার করুন। আগে করা থাকলে লগ ইন করুন।
- Citizen Corner-এর অধীনে বাসিন্দা বা স্থানীয় পঞ্চায়েত সার্টিফিকেটের আবেদন পরিষেবা বেছে নিন।
- ব্যক্তিগত তথ্য, গ্রাম পঞ্চায়েত/ওয়ার্ড এবং কত দিন ধরে বসবাস করছেন তা লিখুন।
- পরিচয়ের প্রমাণ, ঠিকানার প্রমাণ এবং জমি বা সম্পত্তির নথি থাকলে তার স্ক্যান করা কপি আপলোড করুন।
- আবেদন জমা দিয়ে তৈরি হওয়া রেফারেন্স বা আবেদন নম্বর লিখে রাখুন।
- স্থানীয় স্তরে আবেদন পর্যালোচনা ও যাচাইয়ের পর সার্টিফিকেট অনুমোদিত হয়।
সরাসরি গিয়েও আবেদন করা যায়। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর বা পুরসভা/পুর নিগমের ওয়ার্ড অফিসে কাউন্টার থেকে ফর্ম নিয়ে সেখানেই জমা দিতে হয়।
০৬অবস্থা দেখা ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড
- অনলাইনে: আবেদনের রেফারেন্স নম্বর দিয়ে wbpms.in/citizen-এ লগ ইন করে অগ্রগতি দেখুন।
- সরাসরি গিয়ে: প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ নিয়ে সার্টিফিকেট যে গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা/পুর নিগম দেয়, সেই দপ্তরে যান।
- অনুমোদনের পর দপ্তর থেকে ছাপা কপি নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণত পোর্টাল থেকেও সার্টিফিকেট নামানো যায়।
০৭সরকারি লিঙ্ক ও সহায়তা
০৮প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের সঙ্গে এর তফাত কী?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পুরো পশ্চিমবঙ্গে বসবাস প্রমাণ করে এবং তা দেন SDO/BDO। আর স্থানীয় পঞ্চায়েত/পুরসভা সার্টিফিকেট কেবল একটি নির্দিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা বা ওয়ার্ডে বসবাসের প্রমাণ, যা সেই স্থানীয় সংস্থাই দেয়।
আয়ের বা কাস্ট সার্টিফিকেটের আবেদনে কি এটি প্রমাণ হিসেবে দেওয়া যায়?
হ্যাঁ। পশ্চিমবঙ্গে আয়ের সার্টিফিকেট বা কাস্ট সার্টিফিকেটের আবেদনে ঠিকানা বা বসবাসের সহায়ক প্রমাণ হিসেবে এটি সচরাচর তালিকায় থাকে।
এই সার্টিফিকেটের জন্য কি ফি লাগে?
বেশির ভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভা বিনামূল্যে বা নামমাত্র ফিতে এটি দেয়। সঠিক অঙ্ক স্থানীয় সংস্থার ওপর নির্ভর করে।
পেতে কত সময় লাগে?
জমা দেওয়া এবং স্থানীয় যাচাইয়ের পর সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবস লাগে। দপ্তরভেদে তা কিছুটা আলাদা হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও পুর সার্টিফিকেটের বর্তমান পদ্ধতি অনুযায়ী এই পাতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সবসময় সরকারি পোর্টাল বা স্থানীয় পঞ্চায়েত/পুরসভা দপ্তর দেখুন।
